ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজার এলাকায় সোমবার (৯ মার্চ) নতুন একটি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, এই কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন করতে এসে তার মনে পড়ছে প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কথা, যার হাত ধরেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করার সময় সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সময় যে কাজ শুরু হয়েছিল, আজ তা সম্পন্ন হওয়ায় তিনি এটিকে একটি বিশেষ স্মৃতিময় মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, তার পাশে আছেন সাদেক হোসেন খোকার সুযোগ্য সন্তান ইশরাক হোসেন। এলাকার মানুষ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। এই কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধনের মুহূর্ত তার কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পুরো প্রকল্পের জমি প্রায় ২০ কাঠা। এর মধ্যে পাঁচ কাঠা জমি স্থানীয় এক নারী দান করেছেন। সেই সময় তার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের কথাও হয়েছিল। ভবিষ্যতে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান আব্দুস সালাম।
তিনি এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নাগরিকদের সুবিধার জন্য এই কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। তাই এটি রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং ভালোভাবে ব্যবহার করার দায়িত্বও এলাকাবাসীর। এ সময় স্থানীয় কমিশনার মামুনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, কমিউনিটি সেন্টারটি কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়। এটি পুরো কমিউনিটির জন্য। কমিউনিটির উন্নয়ন এবং নাগরিক সুবিধার জন্য এই প্রতিষ্ঠান কাজ করবে এবং এখানে সবাই থাকবে দলমত নির্বিশেষে।
তিনি আরও বলেন, শহরের বিভিন্ন জায়গায় জিমনেশিয়াম করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরান ঢাকায় আগে এ ধরনের অনেক জিমনেশিয়াম ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সেগুলো আবার চালু করার চেষ্টা করা হবে।
এছাড়া বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টারে আগে লাইব্রেরির ব্যবস্থা ছিল, যেগুলো এখন আর নেই। সেগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয় বিবেচনায় এখানে একটি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সেকশন রাখার কথাও বলেন।
নগর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, শুধুমাত্র সিটি করপোরেশনের পক্ষে একা নগর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নাগরিকদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে। ড্রেনে পলিথিন বা ময়লা ফেললে ড্রেন বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন নগর পরিষ্কার রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ময়লা আবর্জনা সংগ্রহের জন্য যারা টেন্ডার নিয়েছেন তারা ১০০ টাকার বেশি নিতে পারবেন না। এর বেশি নিলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত কোনো কর বা চাঁদা নেওয়া যাবে না। কোনো ধরনের চাঁদাবাজিও চলবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে অনেক নেতাকর্মী সময় পার করেছেন। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্বও নেতাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার কাছে কেউ গেলে খালি হাতে ফিরতেন না। তার স্মৃতি ঢাকা শহর বহন করে যাবে। বিশেষ করে পুরান ঢাকার মানুষ দলমত নির্বিশেষে তার সহযোগিতা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সাদেক হোসেন খোকার সুযোগ্য সন্তান ইশরাক হোসেন এখন এলাকার দায়িত্বে আছেন। এলাকার যেকোনো সমস্যার সমাধানে তিনি কাজ করবেন এবং তিনি নিজেও তার পাশে থাকবেন।








